কাঁটাতারে রক্তজবার মত গোলাপ শেখ মো. নজরুল ইসলাম
কাঁটাতারে রক্তজবার
মত গোলাপ
শেখ মো. নজরুল
ইসলাম
আজমিরিগঞ্জের
লালপুরে জন্ম নেয়া নসিবা
অকাল বন্যায়
গ্রামের পর গ্রাম গেল বাসিয়া।
মাটির
গন্ধে বড় হওয়া এক
স্বপ্নাবতী
অভাবের সংসারে
প্রাইমারীতে হলো স্বপ্ন স্থিতি।
মেধা ও বুদ্ধিমত্তায় শিক্ষকের অনুকম্পা
পেয়ে
মাধ্যমিক
পেড়িয়ে
শহরের মহাবিদ্যালয়ে গিয়ে।
উচু দালান ইটের
পর ইট, মানুষ কেমনে হলো কীট।
কেউ হাটে, কেউ
জীপে চড়ে কেউবা টোকাই।
বাস্তুভিটাহীন
ছিন্নমূল ভবঘুরে পাগলেরা না পায় ঠাই।
চিনতাই রাহাজানি
বর্বর আক্রমন দেখে, সে শুধু ভাবে
কেমনে রাজায়
রাজায় আকাশে মানুষ শিকার করে।
দুজন
মিলে চার সোনার সংসার, সুখের ঘর,
কিন্তু বেকার জীবনের বোঝা স্বপ্নে করে ভর।
ব্যাংকের লুট, দুর্নীতির করাল
গ্রাস—হায়েনার রক্তচোষা আঁখি
স্বপ্নগুলো কাঁপে তবু, সমাজ দেউলিয়া হবে নাকি।
নসিবা পত্রিকা
পড়ে!
হঠাৎ
একদিন খবর এলো, সেনাছাউনীর
ভেতর অন্ধকার,
তনুর রক্তে রাঙা হলো, রক্তে ভিজে খাকি পোশাকের আধার।
নসিবার
হৃদয়ে জমে
ঘৃণা,
বুক ভরে ওঠে ব্যথায়,
এই কি তবে আধুনিক
সভ্যতার নাম, যেখানে স্বপ্নেরা হারায়।
তবুও সে থামে না,
ভাবে—মানুষই তার পরিচয়,
দেশের সীমানা নয়, মানবতার বন্ধনই
হয় আসল
লোকালয়।
ফেলানীর
ঝুলন্ত দেহ কাঁটাতারের দেখে, প্রহরীর
নির্মম রূপ,
কেঁপে ওঠে অন্তর, ভেঙে
পড়ে মানবতার স্তূপ।
বুলেটের
শব্দে থেমে যায় এক
কিশোরীর জীবন,
সীমান্ত তখন শুধু রেখা
নয়—গোলাপের মরণ।
নসিবা
তখন কাঁপা কণ্ঠে তোলে প্রতিবাদের স্লোগান
“ কাঁটাতারে ফেলানীর লাশ, আর নয় মানবতার সর্বনাশ!”
হৃদয় জাগে,
প্রশ্ন তোলে—কেন এই
রক্তরথে?
সীমানা
ভাঙবে হৃদয়ের ডাকে, মানুষ হবে মানুষের আপন।
কাঁটাতারে রক্তজবার
মত ফেলানী হলো গোলাপ
কবে বন্ধ হবে
পাগলের অপলাপ।