শিশুর শ্রমের সভ্যতা। শেখ মো. নজরুল ইসলাম

 শিশুর শ্রমের সভ্যতা।

শেখ মো. নজরুল ইসলাম 

শিশুটি জন্মে ছিল কোন এক কুড়েঘরে

জন্মে কেদেঁছিল খাদ্যের জন্য, মায়ের বুকে ছিল ক্ষুধার্ত হাহাকার। 

জন্মেই জেনেছিল শিশুখাদ্য, শিশুঅধিকার মুখের বুলি মাত্র।

জন্মশুধু জীবনের তরে শ্রম, ঘাম, জীবিকার তাগিদ ও নির্যাতন। 

সকাল বিকাল জন্ম ও জন্মান্তরে মক্তব ও বিদ্যালয় নেই

শিক্ষা তো অধিকার নয়, গরিবের বিলাসিতা।

রোদে পোড়া শিশুর হাতে ইট,

ভোরের আলো ফোটার আগেই শুরু জীবনের যুদ্ধ।

ছোট্ট কাঁধে বালির বোঝা,

স্বপ্নগুলো চাপা পড়ে যায় নীরবে, নিঃশব্দে।

তারা গড়ে ডুপ্লেক্স, অট্টালিকা ও সুউচ্চ প্রাসাদ, 

কাচের দেয়ালে ঝলমল করে ঘুষখোরের বিত্তের ছায়া।

অথচ রাতে ফেরে শিশু ভাঙা চালার নিচে,

যেখানে বৃষ্টি এসে ভিজিয়ে দেয় ক্ষুধার্ত ঘুম।

সিমেন্টের গুঁড়োয় ঢাকা তাদের ছোট্ট মুখ,

বইয়ের বদলে হাতে থাকে খুন্তি আর গাঁইতি।

স্কুলের ঘণ্টা বাজে দূরে পাড়ায়,

তারা শোনে শুধু ঠিকাদারের কর্কশ ডাক।

এক ইট, দুই ইট, গাঁথা হয় দেয়াল,

প্রতিটি গাঁথুনিতে মিশে থাকে শৈশবের ঘাম।

যে ভবনে বসবে বিলাসের রাজা,

সেখানে তার প্রবেশ নিষেধ— শুধু শ্রমের অধিকার।

মজুরির নামে হাতে আসে সামান্য কটি টাকা,

পেট ভরে না, তবু চলে বেঁচে থাকার লড়াই।

মা অপেক্ষায় থাকে ভাঙা ঘরের দাওয়ায়,

সন্তানের ফেরার পথ চেয়ে, ক্ষুধার্ত চোখে।

এই শিশু গড়ে দেশের আকাশচুম্বী স্বপ্ন,

নিজের জন্য রাখে না এক চিলতে ছাদ।


জিবিকার এই নিষ্ঠুর সমীকরণে,

সে শুধু ইট, বালি, সিমেন্ট— মানুষ নয় যেন মেশিন।

তবু বেঁচে থাকার আশা তার চোখে জ্বলে,

একদিন হয়তো গড়বে নিজের ঘর।

আজ শুধু অন্যের প্রাসাদ গাঁথে সে,

কষ্টের সুরে গায় জীবনের করুণ গান।

Theme images by Storman. Powered by Blogger.