কমলাবতীর দিঘিনামা শেখ মো. নজরুল ইসলাম

 কমলাবতীর দিঘিনামা

শেখ মো. নজরুল ইসলাম 

এশিয়ার বড়গ্রাম, বানিয়াচং তাঁর নাম,

বড় গ্রাম, বড় কলেবর, সরু রাস্তায় জনতার ধাম। 

হাটে বাজারে নানান জিনিস, চলে বিকিকিনি,

তবুও হাওরে হতাশার  ছাপ, কাঁদে গ্রামের ঋণী। 


রাজা পদ্মনাভ ছিলেন প্রজার হিতের তরে,

দুঃখ মোচন ভাবতেন সদা, রাতের অন্ধকার ঘরে। 

রাজা ছিলেন মস্ত বড় প্রজারা ছিল তার ভক্ত।

রাজার ছিল অভিলাশ, প্রজাদের মনের সাধ

খনন করেন দিঘি প্রজার দুঃখ ও জল নিবারণের তরে। 


জল না উঠে দিঘির বুকে, স্বপ্ন এলো গভীররাতে,

আত্মবিসর্জন দিতে হবে কমলাবতীকে দিঘির মাঝে।

জনশ্রুতি কয়, রাণী কমলাবতী ছিলেন অতি সদাসয়  

সপি জীবন দিঘির জলে, প্রজারা ভাসে নয়ন জলে।  

কালো জলে ভরল দিঘি, আশার প্রদীপ মেলে।


কাজল কালো দিঘির জলে, জেগে ওঠে প্রাণ,

মিন চাষ আর ফসল ফলে, হাসে কৃষকের প্রাণ।

দিঘির পাড়ে কুঁড়েঘর আম,মেহগনি, কৃষ্ণচূড়া সবুজ বৃক্ষের সারি,

অতিথিরা এসে দিঘির পাড়ে স্বপ্নে ভাসায় তরি। 


সেবাশ্রমে সেবায়েত রয়, সেবার আলো জ্বালে,

শ্রমিক চাষী অবহেলায় দিন কাটায় কালে কালে।

মুখে হাসি, শরীর ক্ষীণ, তবু বুকে আশা,

রাজার স্মৃতি পথের ধুলায় করে নিত্য ভাষা।


ভাষার টানে মায়াবি সুর, কথায় নেই ভয়,

সাগর দিঘি আজও যেন হারানো দিনের ক্ষয়।

রাজার চলন নেই যে আর, স্মৃতি শুধু বাকি,

দেখে মনে হয় ভুতের দেশে কাঁদে কাঁঠালপাখি।


তবু আমি হাসি নীরব, হৃদয় জলের ভাসি,

হাওরের বুকে কবে দেখব গরীব প্রজার হাসি। 

Theme images by Storman. Powered by Blogger.